মুন্সীগঞ্জ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় মুন্সীগঞ্জ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি।

মুন্সীগঞ্জ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি:-

আজকের মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রাচীন বাংলার গৌরবময় স্থান বিক্রমপুরের অংশ। মুন্সিগঞ্জ সে সময়ে একটি গ্রাম ছিল ইদ্রাকপুর। কথিত আছে, মোঘল শাসন আমলে এই ইদ্রাকপুর গ্রামে মুন্সী হায়দার হোসেন নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মোঘল শাসকদের দ্বারা ফৌজদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। অত্যন্ত সজ্জন ও জনহিতৈষী মুন্সী হায়দার হোসেনের নামে ইদ্রাকপুরের নাম হয় মুন্সিগঞ্জ। ১৯৪৫ সালে বৃটিশ ভারতের প্রশাসনিক সুবিধার্থে মুন্সিগঞ্জ থানা ও মহকুমা হিসেবে উন্নীত হয়। ১৯৮৪ সালে ১ মার্চ মুন্সিগঞ্জ জেলায় রুপান্তরিত হয়।

 

মুন্সীগঞ্জ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি
রামপালে বাবা আদম মসজিদ – মুন্সীগঞ্জ জেলা

 

ভূমির আকৃতিঃ

মুন্সিগঞ্জ সমতল এলাকা নয়। জেলার কিছু কিছু অঞ্চল যথেষ্ট উচু যদিও জেলায় কোনো পাহাড় নেই। মুন্সিগঞ্জের বেশির ভাগ এলাকা নিম্নভূমি বলে বর্ষায় পানিতে অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে।

অবস্থানঃ

মুন্সিগঞ্জ জেলাটি ২৩.২৯ থেকে ২৩.৪৫ উত্তর অক্ষাংশ ৯০.১০ থেকে ৯০.৪৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবিস্থিত।

 

মুন্সীগঞ্জ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি
ইদ্রাকপুর কেল্লা – মুন্সীগঞ্জ জেলা

 

 

ভৌগলিক সীমারেখাঃ

পূর্বে-কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি ও হোমনা উপজেলা, চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলা যা মুন্সিগঞ্জের সাথে প্রবাহিত মেঘনা নদীর দ্বারা বিভাজিত।

পশ্চিমে-শরিয়তপুর ও মাদারীপুর জেলাকে পদ্মা নদী বিভাজিত করেছে।

উত্তরে-ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ ও দোহার উপজেলা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা।

দক্ষিণে-পদ্মা নদী যার অপর পাশে শরিয়তপুর জেলা।

 

 

জলবায়ুঃ

মুন্সিগঞ্জের জলবায়ু সমভাবাপন্ন। তবে আর্দ্রতা ও দূষনযুক্ত এলাকার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এখানকার জলবায়ু ঋতু বিশেষে পরিবর্তনশীল। শীতকালে শীতের তীব্রতা দেশের অন্যান্য স্থানের মতো তত প্রবল নয়। এলাকাটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলভূক্ত।

আয়তনঃ

মোট আয়তন ২৩৫৯৭৪ একর যার মধ্যে ১৩৮৪৭২ একর চাষযোগ্য এবং ৫৬০৯ একর নিচু জমি

Leave a Comment