মুন্সীগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা, যা তার সমৃদ্ধ ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সুপরিচিত। এই জেলার মিষ্টি এবং আলু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয়। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে এসেছে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

মুন্সীগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রাচীন নাম ছিল ইদ্রাকপুর। মুঘল শাসনামলে, প্রায় ১৬৬০ সালে, মীর জুমলা দ্বিতীয় ইদ্রাকপুর দুর্গ নির্মাণ করেন, যা আজও জেলার প্রধান ঐতিহাসিক স্থাপত্য হিসেবে পরিচিত। এটি মুঘল সাম্রাজ্যের সময়কালের একটি উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ
মুন্সীগঞ্জ জেলা তার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। নিম্নে কিছু উল্লেখযোগ্য স্থান প্রদত্ত হলো:
-
ইদ্রাকপুর দুর্গ: মুঘল আমলের এই দুর্গটি জেলার প্রধান ঐতিহাসিক আকর্ষণ।
-
বাবা আদম মসজিদ: ১৫শ শতাব্দীতে নির্মিত এই মসজিদটি তার বিশেষ স্থাপত্যশৈলীর জন্য পরিচিত।
-
রাজা বল্লাল সেন ও হরিশচন্দ্রের দীঘি: এই দীঘিটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
-
নাটেশ্বর বৌদ্ধ বিহার: বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই বিহারটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র।
-
শ্রীনগরের নরসিংহপুরে জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মস্থান: বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মস্থান হিসেবে এটি পরিচিত।
-
অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান: ১০ম শতাব্দীর এই বৌদ্ধ দার্শনিকের জন্মস্থান হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
-
শ্যামসিদ্ধির মঠ: বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থাপত্যের এই মঠটি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
-
মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট: প্রকৃতির মাঝে অবকাশযাপনের জন্য এই রিসোর্টটি জনপ্রিয়।

সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানসমূহ
মুন্সীগঞ্জে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যা জেলার সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতিফলন বহন করে। এখানে নৌকা বাইচ, লোকসঙ্গীত ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয় ও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
সাম্প্রতিক উন্নয়ন
মুন্সীগঞ্জ জেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে, মিরকাদিমের রামগোপালপুরে ত্রেষা আর্ট গ্যালারির উদ্বোধন করা হয়, যেখানে চিত্রশিল্পী আবুল খায়েরের ৫ম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

মুন্সীগঞ্জ জেলা তার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। এই স্থানগুলো পরিদর্শন করে আপনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীরে প্রবেশ করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ
