পর্যাপ্ত আলু থাকা সত্ত্বেও দাম চড়া ফায়দা লুটছে মধ্যস্বত্বভোগীরা,আলু উৎপাদনের শীর্ষ জেলা মুন্সীগঞ্জের হিমাগারগুলো আলুতে ভরে থাকার সত্ত্বেও আলু চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে ভোক্তা ও কৃষকের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে ফায়দা লুটছেন।রোববার (৭ মে) মুন্সীগঞ্জের হিমাগারগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, অসময়ে আলু বাজারজাতে হিমাগারের শেডে কর্মব্যস্ততা বিরাজ করছে। এই সময় আলু সংরক্ষণের জন্য নিয়ে আসা শেষপর্যায়ের আলু নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখার পরিবর্তে বিক্রি করার জন্য ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

পর্যাপ্ত আলু থাকা সত্ত্বেও দাম চড়া ফায়দা লুটছে মধ্যস্বত্বভোগীরা
আলুর হিমাগার পর্যায়ে ২৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা পর্যন্ত। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। অথচ গত বছর এই সময় প্রতি কেজি আলুর খুচরা বাজার দর ছিল ১০ থেকে ১২ টাকা।ফলে ভোক্তা ও কৃষকের দাবি, আলুর এই অস্বাভাবিক দামের সিন্ডিকেট করে মধ্যস্বত্বভোগী তথা মজুতদাররা ফায়দা লুটছে। এক ক্রেতা বলেন, ‘গত বছর প্রতি কেজি আলু ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা দরে কিনেছি। আর এ বছর
কিনেছি ৩৫ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া বাজারের অন্য সব পণ্যের দামই বেশি। বাজারের এ ঊর্ধ্বগতির কারণে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের বেশি সমস্যা হচ্ছে।’ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত এক কৃষক বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগীরাই মূলত সিন্ডিকেট করে বাজারে আলুর দাম বাড়িয়েছে।’এদিকে বেশি দামে আলু বিক্রি করার বিষয়ে এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘প্রতি কেজি আলু ২৯ টাকা দরে কিনেছি। এ ছাড়া পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ ২ টাকা। তাই আমি প্রতি
কেজি আলু ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করছি।’তবে মুন্সীগঞ্জে আলুর কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মো. আবদুল আজিজ। এদিকে বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এবিএম মিজানুল হক বলেছেন, দর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। আলুর দাম যাতে বেশি না বাড়ে সে জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জে সচল ৬৫টি হিমাগারে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টন আলু
মজুত রয়েছে। জেলায় এ বছর ৩৪ হাজার ৩৪৬ হেক্টর জমিতে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৩ টন আলু উৎপাদন হয়েছে।

আরও পড়ুন:

