Site icon মুন্সীগঞ্জ জিলাইভ | truth alone triumphs

মুন্সীগঞ্জে ‘বাবলা ও বাদশা বাহিনী’ গোলাগুলির ঘটনায় গ্রেফতার ১৪

বাবলা ও বাদশা বাহিনী – মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় দুই ডাকাত গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে ২৫ মামলার আসামি ‌‘ডাকাত সর্দার’ বাবলা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার পর পৃথক স্থান থেকে ডাকাত দলের ১৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

মুন্সীগঞ্জে ‘বাবলা ও বাদশা বাহিনী’ গোলাগুলির ঘটনায় গ্রেফতার ১৪

 

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের মল্লিকের চর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত বাবলা ওরফে উজ্জল খালাসি (৪২) চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাচ্চু খালাসির ছেলে। গুলিবিদ্ধরা হলেন- লিটন মিজি (৩৬), রহিম বাদশা (৫০) ও আক্তার হোসেন (৪০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইমামপুর ইউনিয়নের মল্লিকের চর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে দুটি স্পিডবোট এবং দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ২৫-৩০ জন সহযোগী নিয়ে মহড়া দিচ্ছিলেন বাহিনীর প্রধান বাবলা। কিছুক্ষণ পর তারা মল্লিকের চর গ্রামের রহিম বাদশার বাড়িতে যান। এ সময় রহিম বাদশার বাড়ি থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষ নয়ন বাহিনীর সঙ্গে বাবলার গোলাগুলি হয়েছে। গোলাগুলির পর কিছু লোকজনকে দৌড়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।

 

 

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে রহিম বাদশার বাড়ির একটি কক্ষে বাবলার লাশ পড়ে থাকতে দেখে। আরেক কক্ষে ডাকাত দলের চার সদস্যকে আটকে রাখা হয়। লাশের পাশ থেকে কয়েকটি গুলির খোসা, নগদ ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় গজারিয়া ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রাম থেকে ১০ ডাকাত সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, মেঘনা নদীর ষোলআনী এলাকায় একটি বৈধ বালুমহাল থাকলেও মল্লিকের চর ও গুয়াগাছি এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে দুটি বালুমহাল চলতো। ডাকাত সর্দার বাবলার মদতে মল্লিকের চরের বালুমহালটি পরিচালনা করেন বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন ও রহিম বাদশা। অপরদিকে নদীর গুয়াগাছি এলাকার বালুমহালটি পরিচালনা করতেন আরেক ডাকাত নয়ন বাহিনীর প্রধান নয়ন। দুই বাহিনীর লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নিয়মিত নদীতে মহড়া দিতেন।

ডাকাত সর্দার বাবলার স্ত্রী আফিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীর প্রতিপক্ষ ছিলেন নয়ন বাহিনীর লোকজন। আমাদের লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়েছি, ডাকাত নয়ন ও তার লোকজন স্পিডবোট নিয়ে এসে গোলাগুলি করেছে। বাবলাকে গুলি করে হত্যার পর স্পিডবোট দিয়ে পালিয়ে যায় নয়ন বাহিনী।’

এ বিষয়ে নয়ন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত মো. পিয়াস বলেন, ‘হত্যার ঘটনায় কিছু লোক আমাদের জড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনোভাবেই আমরা জড়িত নই। ঘটনার সময় আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। শুনেছি স্থানীয় লোকজন ডাকাত সর্দার বাবলাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।’

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নিহত বাবলার শরীরে ও মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। দুই ডাকাত গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। বাবলার বিরুদ্ধে গজারিয়া ও বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ ২৫টি মামলা রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে শুনেছি। তবে তাদের পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের ১৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের ১৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

Exit mobile version