মুন্সীগঞ্জ জেলার ইতিহাস

মুন্সীগঞ্জ জেলা, যা প্রাচীনকালে বিক্রমপুর নামে পরিচিত ছিল, বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধ অঞ্চল। এ জেলার ইতিহাস প্রাচীন বংশপরম্পরা, শাসকবর্গ ও বিভিন্ন সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে।

মুন্সীগঞ্জ জেলার ইতিহাস

 

মুন্সীগঞ্জ জেলার ইতিহাস
ইদ্রাকপুর কেল্লা – মুন্সীগঞ্জ জেলা

 

প্রাচীন ইতিহাস:

  • ১০ম-১৩শ শতাব্দী: মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলটি চন্দ্র, বর্মন ও সেন রাজাদের রাজধানী ছিল। শ্রীচন্দ্রের তাম্রশাসনে ‘বিক্রমপুর’ হিসেবে উল্লেখিত এই স্থান পরবর্তীতে বর্মন ও সেন শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হত।

  • ১২শ শতাব্দীর শেষাংশ: লক্ষ্মণসেনের শাসনামলে, বখতিয়ার খলজীর আক্রমণের পর, সেন রাজা এই অঞ্চলে আশ্রয় নেন। তাঁর পুত্র বিশ্বরূপসেন ও কেশবসেন স্বল্পকালের জন্য এ অঞ্চল শাসন করেন।

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

মধ্যযুগ:

  • ১৩শ শতাব্দীর প্রথমার্ধ: বখতিয়ার খলজীর আক্রমণের পর, সোনারগাঁওতে রাজধানী স্থানান্তরিত হয়। এরপর সুলতানি আমলে মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলটি গুরুত্ব হারায়।

  • মোঘল আমল: মুন্সীগঞ্জ তখন ‘ইদ্রাকপুর’ নামে পরিচিত ছিল। ফৌজদার ইদ্রাকের নামানুসারে এই নামকরণ হয়।

নামকরণ:

  • ১৭শ শতাব্দী: মোঘল শাসক হায়দার আলী মুন্সীর নামানুসারে ইদ্রাকপুরের নাম ‘মুন্সীগঞ্জ’ হয়।

ঐতিহাসিক স্থানসমূহ:

  • ইদ্রাকপুর কেল্লা: মোঘল আমলের এই দুর্গ মুন্সীগঞ্জ শহরে অবস্থিত।

  • বাবা আদম মসজিদ: রামপাল ইউনিয়নে অবস্থিত এই মসজিদটি ১৫শ শতাব্দীর স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন।

  • সোনারং জোড়া মন্দির: টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোনারংয়ে অবস্থিত এই মন্দির দুটি ১৮শ শতাব্দীর স্থাপত্যশৈলীর উদাহরণ।

১৯শ ও ২০শ শতাব্দী:

  • ১৯৪৭: দেশভাগের পর, মুন্সীগঞ্জ মহকুমা হিসেবে পরিচিত হয়।

  • ১৯৮৪: মুন্সীগঞ্জ মহকুমা থেকে জেলা হিসেবে উন্নীত হয়।

মুক্তিযুদ্ধ:

  • ১৯৭১: মুন্সীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২৭ রমজান রাতে শহরটি মুক্ত করা হয়।

 

মুন্সীগঞ্জ জেলার ইতিহাস
অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান – মুন্সীগঞ্জ জেলা

 

মুন্সীগঞ্জ জেলার ইতিহাসের টাইমলাইন:

  • ১০ম শতাব্দী: চন্দ্র বংশের রাজা শ্রীচন্দ্রের শাসনামলে মুন্সীগঞ্জকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

  • ১১শ শতাব্দী: বর্মন বংশের রাজা শ্রীবর্মণের শাসনামলে মুন্সীগঞ্জের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।

  • ১২শ শতাব্দী: সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণসেনের সময় মুন্সীগঞ্জ ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র।

  • ১২৮০ খ্রিষ্টাব্দ: বখতিয়ার খলজীর আক্রমণের পর লক্ষ্মণসেন মুন্সীগঞ্জ ত্যাগ করেন।

  • ১৩শ শতাব্দীর প্রথমার্ধ: মুন্সীগঞ্জের জমিদার চাঁদ রায় ও কেদার রায় মোঘল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

  • ১৬শ শতাব্দী: মোঘল শাসনামলে মুন্সীগঞ্জের নাম পরিবর্তিত হয়ে ইদ্রাকপুর হয়।

  • ১৭শ শতাব্দীর মাঝামাঝি: ইদ্রাকপুর কেল্লার ফৌজদার ইদ্রাকের নামানুসারে ইদ্রাকপুর নামকরণ করা হয়।

  • ১৭শ শতাব্দীর শেষাংশ: মুন্সীগঞ্জের জমিদার মুন্সী এনায়েত আলীর নামানুসারে এলাকাটির নাম মুন্সীগঞ্জ হয়।

 

আরও পড়ুূনঃ

Leave a Comment